Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের কাছে গেছে।

এর ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে চলে এসেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আগেই হারায় রিপাবলিকানরা

নির্বাচনের শুরুতেই সিনেটে বড় ধাক্কা খায় রিপাবলিকানরা। ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।

টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা ও ওহাইওর মতো রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এসব রাজ্যের কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

প্রতিনিধি পরিষদও গেল ডেমোক্র্যাটদের দখলে

৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের ফলাফলে সেই সীমা অতিক্রম করে ডেমোক্র্যাটরা নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।

ফলে প্রেসিডেন্টের দল রিপাবলিকানরা এখন কংগ্রেসের কোনো কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে নেই।

ট্রাম্পের ‘ট্রাইফেক্টা’র অবসান

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদ, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে সেই ‘ট্রাইফেক্টা’র অবসান হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদ এখনো রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়বে নজরদারি

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর তদন্ত ও নজরদারি বাড়াতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।

কংগ্রেসের কমিটিগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চালানো, তথ্য চাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হাজির করার মতো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ বাড়বে।

এ ছাড়া সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকায় প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, বিশেষ করে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে।

আইন পাসে থাকছে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা

তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের সব নীতি ও কর্মসূচি সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

কারণ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে ৬০ ভোটের প্রয়োজন হওয়ায় দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সব আইন নিজেরাই পাস করানো কঠিন হবে।

ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন

নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে। AP-এর ভোটার জরিপে প্রায় ১০ জনের ছয়জন ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। একই জরিপে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত।

অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি দুর্নীতি এবং ট্রাম্পের নীতির প্রভাব—এসব বিষয়ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বদলে যাচ্ছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রেসিডেন্ট পদ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছর আরও কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে কাটতে পারে।

আইন প্রণয়ন, তদন্ত, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিচারক নিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এখন প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ