Homeবাণিজ্যজেনেরিক ওষুধে ২০০% শুল্ক: নতুন ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

জেনেরিক ওষুধে ২০০% শুল্ক: নতুন ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

জেনেরিক ওষুধে ২০০% শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নতুন নীতির আওতায় আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধে কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না। তবে নির্ধারিত সময় শেষে ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ওষুধশিল্প, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা এবং ওষুধের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

কী ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প?

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ শুল্কমুক্ত থাকবে।

এরপর—

  • ২০২৮ সালে এক বছরের জন্য শুল্ক হবে ১০০ শতাংশ
  • পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করা হবে

ট্রাম্পের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে পারবে না, তাদের জন্য এই শুল্ক কার্যকর হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর দাবি, বিদেশি উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন ফিরিয়ে আনাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।

ব্র্যান্ডেড ওষুধে কী পরিবর্তন আসছে?

ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

বর্তমানে পেটেন্ট-সুরক্ষিত বা ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের বিদ্যমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জেনেরিক ওষুধের গুরুত্ব

মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) তথ্য অনুযায়ী—

  • যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত ওষুধের ৯০ শতাংশের বেশি জেনেরিক
  • ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়

এ কারণে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে আমদানিনির্ভর ওষুধ কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজ হবে না।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জেনেরিক ওষুধে মুনাফার হার তুলনামূলক কম হওয়ায় অতিরিক্ত শুল্কের ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কম দামের ওষুধের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বৈশ্বিক ওষুধ শিল্পে কী প্রভাব পড়তে পারে?

ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় অংশীদার। তাই নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল, রপ্তানি এবং ওষুধের মূল্য—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগামী দুই বছরে কোম্পানিগুলো উৎপাদন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে পারে। অন্যথায় ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়তে হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ