সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে ভয় দেখিয়ে সম্পত্তির দলিলে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পারভীন আকতার তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
দলিলে সই নেওয়ার অভিযোগ
মামলার আরজিতে পারভীন আকতার অভিযোগ করেন, নাছির চৌধুরী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ থাকার সময় তাঁর তিন সৎভাই সম্পত্তি নিজেদের নামে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে দিরাই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাঁরা অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে সম্পত্তির দলিলে সই করতে বললে তিনি রাজি হননি।
এরপর তাঁর গলায় রামদা ধরে সই না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নাছির চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরীকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে নাছির চৌধুরী দলিলে সই করেন বলে তাঁর স্ত্রীর মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
স্ত্রীর অভিযোগ কী
পারভীন আকতারের অভিযোগ, নাছির চৌধুরীর সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বঞ্চিত করাই আসামিদের উদ্দেশ্য ছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, পরে পুলিশের সহায়তায় অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে তিনি জোর করে দলিলে সই নেওয়ার বিষয়টি জানান।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে অভিযুক্তরা ক্ষমা চান এবং দলিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পারভীন আকতার।
আদালতের নির্দেশ
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত সোমবার মামলার আবেদন করা হয়। বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিপক্ষের বক্তব্য
মামলার অন্যতম আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। বিষয়টি জানার পর আইনগতভাবেই জবাব দেবেন।
ভাইদের বিরোধ প্রকাশ্যে
নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সঙ্গে ভাইদের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
৬ আগস্ট দিরাইয়ে এক সমাবেশে নাছির চৌধুরী বলেন, তাঁর কোনো ভাই নেই। এর পরদিন মঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে মঈন উদ্দিন অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যকে একটি লুটেরা সিন্ডিকেট ঘিরে রেখেছে। তাঁদের দাবি, ওই পরিস্থিতি থেকে নাছির চৌধুরীকে মুক্ত করতে তাঁরা কাজ করছেন।
তবে সম্পত্তির দলিলে জোর করে সই নেওয়া এবং হত্যার হুমকির অভিযোগগুলো এখন তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

