ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে চার দিনের অভিযান শেষে সেটি সিলগালা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দলিল, চেকবই, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান টিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলায় থাকা কার্যালয় থেকে তিন শতাধিক সম্পত্তির দলিল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি শত শত চেকবই, বিভিন্ন ব্যাংকিং নথি এবং স্থায়ী আমানত (এফডিআর) সংক্রান্ত কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে।
জব্দ তালিকায় রয়েছে একটি ম্যাকবুক, একাধিক মোবাইল ফোন, একটি নেক্সাস ট্যাব এবং একটি আইপ্যাডসহ মোট সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ডিভাইসের কয়েকটি ইকবালের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করতেন।
কার্যালয়ের দুটি কক্ষ সিলগালা
দুদকের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফ জানিয়েছেন, পুরো ভবন নয়, বরং এইচ বি এম ইকবালের ব্যক্তিগত চেম্বার এবং একজন পরিচালকের কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে। একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
জব্দ করা নথিগুলোর মধ্যে সম্পদের দলিলের তালিকাই কয়েক ডজন পৃষ্ঠাজুড়ে রয়েছে। এছাড়া কয়েক শ চেকবই এবং প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রিমিয়ার গ্রুপের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রিমিয়ার গ্রুপের তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদার, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং মহাব্যবস্থাপক এ ডি এম নাজমুল ইসলাম।
অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্র ধরে তাদের তলব করা হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন, সম্পদ অর্জন এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
একাধিক মামলার তদন্ত চলমান
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার গ্রুপের বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচটি মামলার সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আর্থিক অনিয়ম, সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারসংক্রান্ত অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুদকের চলমান অনুসন্ধানে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

