Homeবাণিজ্যফেলনা জিনিস থেকে কোটি টাকার রপ্তানি, ৫০০ নারীর কর্মসংস্থান গড়েছেন মাগুরার সাউয়াদা

ফেলনা জিনিস থেকে কোটি টাকার রপ্তানি, ৫০০ নারীর কর্মসংস্থান গড়েছেন মাগুরার সাউয়াদা

মাগুরার এক উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দৃষ্টান্ত। পেঁপের নল, শজনের ডাল-পাতা, নারকেলের ছোবড়া, নিম ও আমগাছের ডালসহ নানা ফেলনা বা অব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে পোষা প্রাণীর জন্য তৈরি হচ্ছে শত শত ধরনের পণ্য। আর সেই পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে।

মাগুরার জাগলা এলাকার উদ্যোক্তা সাউয়াদা ইসলাম প্রতিষ্ঠিত বোল্ড পার্টনারস লিমিটেড বর্তমানে জাপান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পোষা প্রাণীর খাবার, খেলনা ও আনুষঙ্গিক পণ্য রপ্তানি করছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০০ নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় উপকরণে বিশ্ববাজারের পণ্য

সাউয়াদা ইসলামের কারখানায় পেঁপের নল, শজনের ডাল ও পাতা, ঘাস, নিম ও আমগাছের ডালসহ স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে পোষা প্রাণীর জন্য প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়।

এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে খেলনা, খাবার, স্ন্যাকস, পোষা প্রাণীর পোশাক, পাখির বাসা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক চিবানোর সামগ্রী।

কারখানার কর্মকর্তারা জানান, খরগোশ, গিনিপিগ, হ্যামস্টার, কুকুর ও বিড়ালের জন্য আলাদা আলাদা পণ্য তৈরি করা হয়। পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

২০১৮ সালে শুরু, এখন কোটি টাকার রপ্তানি

২০১৮ সালে মাত্র চার থেকে পাঁচজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বোল্ড পার্টনারস লিমিটেড। শুরুতে মাত্র দুটি ধরনের খেলনা তৈরি করা হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শত শত পণ্য উৎপাদন করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৭ লাখ ৩৬ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকার কাছাকাছি।

সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে জাপানে। এরপর রয়েছে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া।

নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য ভূমিকা

প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি প্রায় ২০০ নারী কাজ করছেন। এছাড়া আরও প্রায় ৩০০ নারী বাড়িতে বসেই বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে আয় করছেন।

কর্মীদের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিবহন সুবিধা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত নারীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

বিদেশি চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছ থেকেও সংগ্রহ করা হয়। পেঁপের নল, ঘাস, নিম ও আমগাছের ডাল সংগ্রহ করে কারখানায় সরবরাহ করছেন শতাধিক মানুষ।

ফলে আগে অবহেলিত বা ফেলনা হিসেবে বিবেচিত উপকরণ এখন অনেক পরিবারের আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা

সাউয়াদা ইসলাম মনে করেন, পোষা প্রাণীর পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার অত্যন্ত বড়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

তিনি চান, আগামী কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের আরও উদ্যোক্তা তৈরি হোক এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হোক।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ