আসন্ন জাতীয় বাজেটে ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা আসছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারীদের আয়ের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সরকার। তবে একই বাজেটে স্বর্ণালংকার বিক্রির লাভের ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি করে আয় করা ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর নতুন করে কর বসানো হবে না। এসব আয়কে রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সুবিধা গণমাধ্যম বা মিডিয়া-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জানা গেছে।
এদিকে সম্পদকর চালুর আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। পরিবর্তে বিদ্যমান সারচার্জ ব্যবস্থাই বহাল রাখা হতে পারে।
বাজেটে স্থানীয় কৃষি ও শিল্পকে উৎসাহ দিতে দেশীয় বীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্যদিকে, স্বর্ণালংকার বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন করনীতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকার বিক্রি করে লাভ হলে তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। বর্তমানে এ ধরনের লাভ সাধারণ আয়করের আওতায় হিসাব করা হয়।
এ ছাড়া পরামর্শক ফি, সম্মানী ভাতা, সভার ফি এবং প্রশিক্ষকদের সম্মানীর ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, সম্পদের ওপর কর আরোপ রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হতে পারে এবং আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে স্বর্ণ বিক্রির ওপর নতুন কর আরোপের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক নারী ব্যক্তিগত সঞ্চয় হিসেবে স্বর্ণালংকার ব্যবহার করেন। প্রয়োজনের সময় এসব বিক্রি করে অন্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। নতুন করের কারণে সেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কিছুটা সীমিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষক ও পরামর্শকদের ওপর উৎসে কর বৃদ্ধি করা হলে দক্ষ জনবল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকার আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য দেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও বৃহৎ সম্পদধারীদের কাছ থেকে অধিক কর আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।


