এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও লিখতে যাচ্ছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনও হবে তিনটি ভিন্ন শহরে। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম থেকে। উদ্বোধনী ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও লোকজ সংস্কৃতির প্রদর্শনী থাকবে। দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা। তাঁর সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়।
এরপর কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্জনের নানা দিক তুলে ধরা হবে বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন একাধিক আন্তর্জাতিক তারকা শিল্পী, যাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী আয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি, চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং গল্পনির্ভর পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলারসহ বিশ্বসংগীতের জনপ্রিয় তারকারা।
ফিফা জানিয়েছে, তিনটি আয়োজনের ধরন আলাদা হলেও মূল বার্তা থাকবে একটাই—ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথার বার্তাই তুলে ধরা হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইভেন্ট নির্মাতা মার্কো বালিচ। অলিম্পিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তাই মাঠের খেলার আগেই অপেক্ষা করছে সংগীত, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সাজানো এক অনন্য আয়োজন, যা বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলবে।


