ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার পরপরই জাহাজে আগুন দেখা দিলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওমানের লিমাহ উপকূল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ট্যাংকারটির বাঁ পাশে আঘাত হানে অজ্ঞাত বস্তুটি। এরপর জাহাজে আগুন লাগে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও নতুন উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল।
তবে সর্বশেষ হামলা আবারও প্রমাণ করল, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান—সব দেশই এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি রপ্তানি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌপথে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
তদন্ত চলছে
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম দেখা গেলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

