সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
কীভাবে ঘটল সংঘর্ষ?
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে এক শিশুরোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হলে দায়িত্ব পালনরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে আরও লোক এনে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। খবর পেয়ে অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহত হয়েছেন যাঁরা
সংঘর্ষে দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের দাবি, আহত একজন ইন্টার্নের অবস্থা গুরুতর।
কর্মবিরতির ঘোষণা
ঘটনার পর ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম এক বিবৃতিতে জানায়, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সব ধরনের চিকিৎসাসেবা থেকে বিরত থাকবেন।
সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
- চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শাটডাউন
একই ঘটনায় ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

