চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, খাদ্য, গবাদিপশু ও জীবিকার শেষ সম্বল ভেসে গেছে। পানিবন্দী মানুষের অনেকেই এখন আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা স্বজনদের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
এক রাতেই হারিয়ে গেল সব
বাঁশখালীর পশ্চিম কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা আশা খাতুনের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল তাঁর ছোট্ট মাটির ঘর। কয়েক দিন আগে গভীর রাতে হঠাৎ বন্যার পানি ঘরে ঢুকে পড়লে মুহূর্তেই সবকিছু তলিয়ে যায়।
তিনি কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসলেও সঙ্গে নিতে পারেননি কাপড়, খাদ্য কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস। বর্তমানে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছেন।
নিজের ভিটায় ফিরে তিনি শুধু পানির নিচে ডুবে থাকা জায়গাটুকুই দেখতে পেয়েছেন। ঘর, ধানের গোলা, হাঁস-মুরগি এবং পুকুরের মাছ—সবই হারিয়ে গেছে।
গ্রামের পর গ্রাম পানির নিচে
পশ্চিম কোকদণ্ডীসহ বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। কাঁচা রাস্তা, কৃষিজমি, পুকুর ও বসতবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। কোথাও ঘরের দেয়াল ধসে পড়েছে, কোথাও কেবল টিনের চালা পানির ওপর দেখা যাচ্ছে।
অনেক পরিবার ভাঙা ঘর থেকে যা উদ্ধার করা সম্ভব, তা সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আবার অনেকেই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
কৃষি ও জীবিকায় বড় ক্ষতি
স্থানীয়দের মতে, পানি এত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল যে অধিকাংশ পরিবার ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগই পায়নি। অনেকের চাল-ডাল, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং মাছের খামার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষিজমিও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।
বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
এতে নতুন করে পানি বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্রুত সহায়তার অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্তরা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং ঘর পুনর্নির্মাণে সরকারি সহায়তা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, দ্রুত কার্যকর সহায়তা না পেলে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

