দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) বর্তমানে কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ২১ মাস ধরে নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব না থাকলেও এতদিন প্রশাসকের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম চলছিল। তবে প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখন সেই পদেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
ফলে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সংগঠনটি বর্তমানে প্রশাসক ও নির্বাচিত নেতৃত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই শূন্য অবস্থায় রয়েছে।
নির্বাচন অনিশ্চিত, আটকে আছে বিধিমালা সংশোধন
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংশোধনের কাজও এখনো শেষ হয়নি। আগের সরকারের সময় শুরু হওয়া সংশোধন প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন চেম্বারের নির্বাচনও স্থগিত রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, নতুন বিধিমালার কিছু ধারাকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিলেও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক নেতাদের মতে, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সরকারের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়বে।
কী বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
বাণিজ্যসচিব জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ চলছে। তাঁর নেতৃত্বেই এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগ ঘোষণা করা হয়নি।
কেন নির্বাচন আটকে
২০২৪ সালে জারি হওয়া নতুন বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালায় পরিচালনা পর্ষদে টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। এই বিধানকে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যবসায়ী আদালতে রিট করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
এরপর থেকে বিধিমালা সংশোধন এবং নির্বাচন—দুই প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা
ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত নতুন প্রশাসক নিয়োগ, বিধিমালা সংশোধন এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইকে কার্যকর করা প্রয়োজন। তাদের মতে, শক্তিশালী ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ছাড়া দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, শিল্প উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের স্বার্থ সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না।

