Homeসারাদেশকক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা: ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষয়ক্ষতি ৮৯০ কোটি টাকা

কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা: ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ক্ষয়ক্ষতি ৮৯০ কোটি টাকা

কক্সবাজারে টানা ৯ দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বসতবাড়ি, সড়ক, কৃষি, মৎস্য, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন খাতে মোট প্রায় ৮৯০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে রয়েছে এবং বহু পরিবার দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

৭০টি ইউনিয়ন প্লাবিত

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন এবং ৪টি পৌরসভা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেকুয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এছাড়া মাতামুহুরী, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও রামুতেও ব্যাপক প্লাবন দেখা দেয়।

এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা

ত্রাণ চলছে, চাহিদা আরও বেশি

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ২৯৮ মেট্রিক টন চাল এবং ৭,৭৯০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজন রয়েছে—

  • ৫৭ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার
  • ৫৩০ মেট্রিক টন চাল
  • ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা নগদ সহায়তা
  • ৪,৮৮৩ বান্ডিল ঢেউটিন
  • ৯৫ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট

এখনো পানিবন্দী বহু পরিবার

পেকুয়ার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও নিচু এলাকায় এখনো অনেক পরিবার পানির মধ্যে বসবাস করছে। অনেক ঘরের মেঝে দেবে গেছে, দেয়াল ধসে পড়েছে এবং রান্নার উপযোগী পরিবেশ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনো কাটেনি।

সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি

বন্যার কারণে জেলার ২,০৪৮ কিলোমিটার সড়ক, ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী এলাকায় বহু সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধাক্কা

বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হাজার ৪০১ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৪৩ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া ৩,৯১৮টি মাছের পুকুর৪৫৩টি চিংড়িঘের প্লাবিত হয়ে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বেড়িবাঁধে ভাঙন

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার ৩৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ৪৪টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

পুনর্বাসনের প্রস্তুতি

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য পুনর্বাসন, বীজ, সার এবং অন্যান্য সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ