বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বর্তমানে ব্যাংক খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিনেই ১০টি ব্যাংক দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় পুরো খাতেই আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, টানা দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে কোনো কোম্পানিকে জেড শ্রেণিতে ফেলা হয়। ফলে এসব ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায় এবং ঋণসুবিধাও বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে ১৫
নতুন করে ১০টি ব্যাংক জেড শ্রেণিতে যাওয়ায় এখন মোট ১৫টি ব্যাংক দুর্বল হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগে থেকেই ৫টি ব্যাংক এই তালিকায় ছিল।
এছাড়া আরও ৫টি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, যেগুলো একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০টি ব্যাংক এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, যা মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের অর্ধেকেরও বেশি।
দুই ধরনের ব্যাংক খাত
একদিকে কিছু ব্যাংক রেকর্ড মুনাফা করেছে, অন্যদিকে অনেক ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে—ফলে খাতে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।
ভালো পারফর্ম করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- BRAC Bank
- City Bank
- Pubali Bank
এই ব্যাংকগুলো হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
বাজারে নেতিবাচক প্রভাব
দুর্বল ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ার প্রভাব সরাসরি শেয়ারবাজারে পড়েছে।
- ব্যাংক খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে
- ডিএসই সূচক প্রায় ২১ পয়েন্ট কমেছে
- লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশও কমে গেছে
এতে পুরো বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
কেন এমন হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে:
- কিছু ব্যাংকে দুর্নীতি ও অনিয়ম
- খেলাপি ঋণের চাপ
- তারল্য সংকট
- আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়া
এসব কারণে ব্যাংকগুলো মুনাফা করতে পারছে না এবং লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সমাধান কী?
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি উন্নত করতে—
- খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে হবে
- ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে
- দুর্বল ব্যাংকগুলোর দ্রুত একীভূতকরণ সম্পন্ন করতে হবে
- বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে


