ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছে। সড়কে যানবাহনের চাপ হ্রাস, নির্মাণকাজ সীমিত হওয়া এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণও কমে এসেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী হিসেবে পরিচিত ঢাকা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১৬৪, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৫২, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, একিউআই স্কোর ৮২ নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল ১১তম। এই স্কোর অনুযায়ী রাজধানীর বাতাসের মান ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও বায়ুদূষণের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তি, শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুমান ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম২.৫ ও পিএম১০), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ওজোনের মাত্রা বিশ্লেষণ করে একিউআই নির্ধারণ করা হয়। এসব দূষক ফুসফুস, হৃদরোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীতে জনসমাগম ও যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আপাতত বায়ুমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন টেকসই সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।


