Homeজাতীয়আসিফ মাহমুদের বিদেশি সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক, ব্যাংক হিসাবও তলব

আসিফ মাহমুদের বিদেশি সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক, ব্যাংক হিসাবও তলব

আসিফ মাহমুদের বিদেশি সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী পান্নার দেশ-বিদেশের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনের সঙ্গে সাম্প্রতিক দুদক-সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোও একই অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করছে।

দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য চাওয়া হয়েছে

দুদকের চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে থাকা বন্ধ, সুপ্ত ও চলমান হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণ হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, অনুসন্ধানের জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে বিএফআইইউর কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাঁচ দেশে সম্পদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ

পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব এবং কথিত অর্থ পাচার ও শেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারস্পরিক আইনি সহায়তা ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হতে পারে। দুদক সচিব জানিয়েছেন, আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজন হলে বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের সহায়তা চাওয়া হবে।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ

আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগও নিয়েছে দুদক। অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অনুসন্ধান চলাকালে তিনি দেশ ছাড়লে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে বলা হয়নি; বরং এ বিষয়ে আবেদন করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের হিসাবে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

দুদকের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। এর আগে তিনি দুদকের অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অংশ বলে দাবি করেছিলেন। তিনি অভিযোগের অর্থের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে, দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেছেন, আসিফকে লক্ষ্য করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়নি; অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করা হচ্ছে।

এখন অনুসন্ধান শেষে দুদক কী তথ্য ও সিদ্ধান্ত দেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ