Home আন্তর্জাতিক গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি

গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি

0
গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত, নতুন করে বাস্তুচ্যুত হাজারো ফিলিস্তিনি
ইসরায়েলের সম্প্রসারিত সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকার কারণে গাজায় আবারও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন বহু ফিলিস্তিনি পরিবার।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত হওয়ায় নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন হাজারো ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির জেইতুন, তুফাহ, শেজাইয়া, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস এবং উত্তর রাফাহসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক সীমারেখা এগিয়ে নেওয়ার ফলে বহু পরিবার আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

জেইতুন এলাকার বাসিন্দা আসেম দাওলা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি তাঁর পরিবারকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়ার সপ্তম বা অষ্টম ঘটনা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নতুন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং ‘ইয়েলো লাইন’ সালাহ আল-দীন সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পর তাঁরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ট্রাকে তুলে এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যা উদ্ধার করা সম্ভব, তা নিয়েই নতুন আশ্রয়ের উদ্দেশে রওনা হন।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজায় বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এলেও সামরিক নিয়ন্ত্রণের এলাকা নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হামাস-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত পাঁচটি এলাকায় ইসরায়েল ‘ইয়েলো লাইন’ আরও ভেতরের দিকে সরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঢেউ শুরু হয়েছে।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোনে পাঠানো বার্তা এবং ড্রোনে লাগানো লাউডস্পিকারের মাধ্যমে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর পরিবারগুলো দ্রুত নিজেদের সামান্য মালপত্র গুছিয়ে নিরাপদ হিসেবে নির্ধারিত অন্য এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজায় তাদের মোতায়েনের উদ্দেশ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে সেনা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্পর্শের ঝুঁকি কমানো হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেখানে সামরিক উপস্থিতি, ভৌত প্রতিবন্ধক, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

তবে গাজার সাধারণ মানুষের জন্য বারবার স্থানান্তর এখন এক কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। আগের আশ্রয় থেকে রক্ষা পাওয়া কয়েকটি কম্বল, রান্নার পাত্র, শিশুদের স্কুলব্যাগ কিংবা প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী নিয়েই তাঁদের আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে। অনেকেই দিনের পরিবর্তে রাতের অন্ধকারে এলাকা ছাড়ছেন, যাতে তুলনামূলক নিরাপদে পৌঁছানো যায়।

আসেম দাওলার মা উম্মে সামি ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে করতে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের বসতবাড়ির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। আগের দিন আশপাশে হামলার পর তাঁরা বুঝতে পারেন, সেখানে আর থাকা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই আবারও নতুন আশ্রয়ের পথে যেতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) গত ২০ জুলাই প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলের নতুন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কারণে অন্তত ৩০টি পরিবার তাঁবু ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয়দের দাবি, পরে ওই অস্থায়ী আশ্রয়গুলোও ধ্বংস হয়ে যায়।

ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে একের পর এক ট্রাক যখন মানুষের শেষ সম্বল বহন করে অন্যত্র যাচ্ছে, তখন অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে গাজার বাসিন্দাদের জন্য। আসেম দাওলার ভাষায়, “এই পুরো যুদ্ধটাই যেন একটানা বাস্তুচ্যুতির গল্প। কোথাও স্থায়ীভাবে থাকা যায় না; কিছুদিন পরই আবার বলা হয়, এখান থেকেও চলে যেতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here