প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজে ডিটারজেন্ট একটি অপরিহার্য পণ্য। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ধরন ও বৈশিষ্ট্যের অসংখ্য ডিটারজেন্ট থাকায় অনেক ক্রেতাই কোনটি বেছে নেবেন তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে—ডিটারজেন্টে যত বেশি ফেনা হবে, কাপড়ও তত বেশি পরিষ্কার হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপড় পরিষ্কারের মূল ভূমিকা রাখে ডিটারজেন্টে থাকা কার্যকর রাসায়নিক উপাদান, ফেনা নয়। অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হলে কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করতে বেশি পানি ও সময় লাগে। এমনকি ফেনার অবশিষ্টাংশ কাপড়ের আঁশে থেকে গেলে সময়ের সঙ্গে কাপড়ের উজ্জ্বলতা কমে যেতে পারে এবং কাপড়ের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ডিটারজেন্ট কেনার সময় ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ। হাতে কাপড় ধোয়ার জন্য তৈরি হ্যান্ডওয়াশ ডিটারজেন্ট দ্রুত ফেনা তৈরি করে এবং সেই অনুযায়ী উপযোগী। অন্যদিকে ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিনের জন্য কম ফেনাযুক্ত লিকুইড বা ম্যাটিক পাউডার ব্যবহার করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত ফেনা মেশিনের ড্রাম ও মোটরের কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। টপ লোড ওয়াশিং মেশিনে সাধারণত মাঝারি মাত্রার ফেনাযুক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডিটারজেন্টের ধরন অনুযায়ীও কার্যকারিতায় পার্থক্য রয়েছে। পাউডার ডিটারজেন্ট কাদা, ধুলাবালি ও ভারী কাপড়ের সাধারণ ময়লা পরিষ্কারে কার্যকর এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। অন্যদিকে তেল, গ্রিস বা মসলার দাগ দূর করতে লিকুইড ডিটারজেন্ট বেশি কার্যকর। এটি দ্রুত পানিতে মিশে যায় এবং রঙিন বা সুতি কাপড়ের রং দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন রাখতে সাহায্য করে।
ডিটারজেন্ট কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে থাকা উপাদানগুলোর দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রোটিয়েজ, অ্যামাইলেজ বা লাইপেজের মতো এনজাইমযুক্ত ডিটারজেন্ট রক্ত, ডিম, দুধ কিংবা খাবারের ঝোলের মতো কঠিন দাগ দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে অপটিক্যাল ব্রাইটনার কাপড়কে আরও সাদা ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করলেও অতিসংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে হালকা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
শিশু ও সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে ডিটারজেন্ট নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সাধারণ ডিটারজেন্টে থাকা তীব্র ক্ষার শিশুদের কোমল ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ির কারণ হতে পারে। তাই শিশুদের কাপড় ধোয়ার জন্য ‘ডার্মাটোলজিক্যালি টেস্টেড’ এবং সুগন্ধিমুক্ত মৃদু লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অনেকেই মনে করেন বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে কাপড় আরও ভালো পরিষ্কার হবে। বাস্তবে অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট কাপড়ে জমে থেকে কাপড়কে খসখসে ও শক্ত করে ফেলতে পারে। তাই সব সময় প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।