লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা শুধু কোটি ভক্তকেই আবেগতাড়িত করেনি, সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে তাঁর কাছের মানুষদের। মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দুই নারী—মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি ও স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো—ছেলের এই নতুন অধ্যায়কে দেখছেন ভালোবাসা, গর্ব ও আবেগের মিশেলে।
মেসির ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর মায়ের অবদান ছিল অসামান্য। শৈশবে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ছেলের স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সেলিয়া নিজের পরিশ্রম দিয়ে পাশে ছিলেন। পরে মেসির ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার সময়ও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
ছেলের অবসরে কাঁদলেন মা সেলিয়া
মেসি জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত অনেক দিন ধরেই ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা সেলিয়া। আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরিবারের সবাই বিষয়টি জানলেও ঘোষণা আসার পর আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়েছে।
সেলিয়া বলেন, ছেলের সিদ্ধান্তে কষ্ট থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মেসি যেন ভালো থাকেন এবং সুখী থাকেন।
মেসির জীবনে সম্প্রতি বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তাঁর বাবা হোর্হে মেসি মারা যান। স্বামীকে হারানোর পর অল্প সময়ের মধ্যেই ছেলের জাতীয় দল থেকে অবসরের খবর পান সেলিয়া।
তিনি স্মরণ করেন, মেসির বাবা সব সময় ছেলেকে নিয়ে বলতেন, “তুমি খেলা ছেড়ে দিলে আমি কী করব?” পরিবারের জন্য বিষয়টি তাই আরও আবেগপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্ত্রীর চোখে মেসির সংগ্রাম ও সাফল্য
মেসির শৈশবের বন্ধু ও পরবর্তী সময়ে জীবনসঙ্গী হওয়া আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো স্বামীর অবসরকে দেখছেন গর্বের মুহূর্ত হিসেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় রোকুজ্জো লিখেছেন, মেসির পুরো যাত্রার সাক্ষী হতে পারা তাঁর জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
তিনি মেসির কঠিন সময়গুলোর কথাও স্মরণ করেন—যখন সমালোচনা এসেছে, বাধা এসেছে, তবুও মেসি কখনো হাল ছাড়েননি।
সন্তানদের জন্য মেসি এক অনুপ্রেরণা
রোকুজ্জোর মতে, মেসির সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি দিক হলো—তাঁর সন্তানরা চোখের সামনে বাবার সংগ্রাম ও সাফল্য দেখেছে।
তাঁর তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও চিরো দেখেছে কীভাবে একজন মানুষ নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই করে সফল হতে পারেন।
রোকুজ্জো বলেন, হয়তো একদিন সন্তানরা বুঝবে তাদের বাবার গল্প কতটা অসাধারণ। তবে এই মুহূর্তে তারা শুধু বাবাকে নিয়ে গর্বিত।
ফুটবল মাঠে মেসির অসংখ্য অর্জনের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের ভালোবাসা ও সমর্থনও তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম শক্তি ছিল।

