তিব্বত–নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জনই বিদেশি নাগরিক। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকেরা ২৩টি দেশের নাগরিক। তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।
তিব্বতের গিরং কাউন্টির শিগাতসে শহর ও আশপাশের এলাকায় গত বুধবার ভয়াবহ এ দুর্যোগ আঘাত হানে। হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ার পর ত্রিশূলী ও ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ কাদাপানি ও পাথরের ঢল নেমে আসে। এতে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা, গ্রাম ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে কোন দেশের কতজন
সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে নেপালের ১০৫ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ছয়জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার চারজন, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার তিনজন করে নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ফ্রান্স, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের দুজন করে এবং ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির একজন করে নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকাজ চলছে
চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, গত শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তিব্বতের গিরং কাউন্টির শিগাতসে শহর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, ভয়াবহ ঢলে নেপালেও ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে অন্তত ৬৭৫ জন নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।
নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, দেশটিতে এখনো ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর ২৬১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৭ জন ভারতীয় ও ৪০ জন চীনা নাগরিক।
এ ছাড়া ইউক্রেনের আটজন, জার্মানি ও মাল্টার চারজন করে, যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন এবং স্পেন, তুরস্ক, ইতালি, রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের দুজন করে নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ওমান ও পর্তুগালের একজন করে নাগরিকও উদ্ধার হয়েছেন। আরও ২১ জন বিদেশি নাগরিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
তিব্বত–নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ পরিস্থিতি
হিমালয়সংলগ্ন এই অঞ্চলে আকস্মিক ঢল ও ভূমিধসের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে। বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানির স্রোতে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধান ও তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজও চলছে।

