Homeআন্তর্জাতিকইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফর, ট্রাম্প-সি বৈঠকের আগে চীনের ভূমিকা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফর, ট্রাম্প-সি বৈঠকের আগে চীনের ভূমিকা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফর

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করতে আজ বুধবার বেইজিং যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন ওয়াং ই।

ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে আরাগচির এই সফর হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে চীনের সম্ভাব্য কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মধ্যস্থতায় কি সক্রিয় হবে চীন?

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে সি চিন পিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ব্রিকসের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীন চার দফা প্রস্তাবের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো, সংঘাত বন্ধ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে সি চিন পিং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। ইরানের কিছু বিশ্লেষকও সতর্ক করেছেন, তাঁর বক্তব্যকে সরাসরি মধ্যস্থতার প্রস্তাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনবিষয়ক গবেষক হামেদ ভাফায়ির মতে, সি চিন পিংয়ের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতার প্রস্তাব হিসেবে দেখা অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা হবে।

চীনের জন্য সংঘাতের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চীনের অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে সংঘাতে সরাসরি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়লে কূটনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই চীনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করলে বেইজিংয়ের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।

পারমাণবিক ইস্যুও আলোচনায়

আরাগচির বেইজিং সফরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপও আলোচনায় আসতে পারে। সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক ইস্যু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা। চীন ও রাশিয়া এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করছে। ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

ট্রাম্প-সি বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতা

আরাগচির বেইজিং সফরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। এর পর ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের বিষয়টি তখনও প্রক্রিয়াধীন ছিল।

এই পরিস্থিতিতে আরাগচির বেইজিং সফর ইরান-চীন সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চীন শেষ পর্যন্ত সরাসরি মধ্যস্থতায় যাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ