চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্বাগতিক মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল এল ত্রি। এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে জুলিয়ান কিনিওনেস দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন। এরপর ৩১তম মিনিটে রাউল হিমেনেজ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এই দুই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পরিসংখ্যানে বল দখলে এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর। ম্যাচে প্রায় ৫৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও তারা কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি। মাত্র পাঁচটি শট নিতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, যার একটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে মেক্সিকো কম বল দখল রেখেও আক্রমণে ছিল অনেক বেশি ধারালো।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইকুয়েডর।
বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হলেও তাতে মেক্সিকোর পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি। জয়ের মাধ্যমে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে আজতেকা স্টেডিয়ামে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রাখল মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বেও তারা তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল এবং কোনো গোল হজম করেনি।
এদিকে ম্যাচটিতে ইতিহাস গড়েছেন ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। তিনি ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে মাঠে নামা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন।

