Homeরাজনীতিবিএনপিকে প্রশ্ন ছুড়ে জামায়াতের পরওয়ার: স্বাধীনতাবিরোধীদের কেন রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছিল?

বিএনপিকে প্রশ্ন ছুড়ে জামায়াতের পরওয়ার: স্বাধীনতাবিরোধীদের কেন রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছিল?

একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর বিএনপির বিভিন্ন সরকার এমন ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি যদি জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে তাদেরও জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির শাসনামলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

সম্প্রতি সংসদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। এরই প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলের অবস্থান ছিল ভিন্ন। সেই সময়ের নেতারা তাঁদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বহু বছর পর একই বিষয় নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করলে তা রাজনৈতিক বিভাজনই বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে রাজনৈতিক জোটে ছিল। সে সময় একাত্তরের বিষয়টি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। তাই এখন একই বিষয়কে সামনে এনে রাজনৈতিক সমালোচনা করা দ্বিমুখী অবস্থান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের একটি অংশের ভূমিকাও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থানকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গণমাধ্যমের উচিত বস্তুনিষ্ঠ ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাত এড়িয়ে চলা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ ও রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ