টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং আটজন রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর (৪৫) নিহত হন। পাহাড়ের একটি অংশ তাঁর বাড়ির ওপর ধসে পড়লে পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুই সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেও রাতভর পৃথক পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ কয়েকটি পরিবার এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ অভিযানে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী হাজারো রোহিঙ্গা পরিবার এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারীদের পাহাড়সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

