বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচের সাক্ষী হলো মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম। গোল, লাল কার্ড, পেনাল্টি আর টানটান উত্তেজনায় ভরা লড়াইয়ে ৩-২ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম বড় ধাক্কা দেয় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যাম মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হুলিয়ান কিনিয়োনেস একটি গোল শোধ করে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। এরপর স্বাগতিকরা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৫৪ মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি মেক্সিকো।
বরং ৬০ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পটকিক থেকে হ্যারি কেইন গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।
এর কিছুক্ষণ পর ইংল্যান্ডের বক্সে ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। রাউল হিমিনেজ গোল করে ব্যবধান ৩-২ করলেও শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।
শেষ আধাঘণ্টা ১০ জন নিয়ে অসাধারণ রক্ষণ সামলায় ইংল্যান্ড। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্স।
পরিসংখ্যানেও মেক্সিকোর আধিপত্য স্পষ্ট। বল দখলে ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ, তারা ২০টি শট নেয় এবং ১২টি কর্নার আদায় করে। অন্যদিকে মাত্র ৬টি শট নিয়েই ৩টি গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নরওয়ের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই করেও নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হলো মেক্সিকোর।

