হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের জন্য দেওয়া তেল বিক্রির সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা (ওয়েভার) বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসন জানায়, ইরানের প্রতি দেওয়া বিশেষ সুবিধা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ বা বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হবে।
তেলের দামে বড় উল্লম্ফন
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা যায়।
- মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলার অতিক্রম করে।
- ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ৫.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।
হামলার পর কঠোর অবস্থান
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যকর থাকবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে তেহরানের আচরণের ওপর।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এসব কর্মকাণ্ডের পরিণতি ইরানকে ভোগ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালিতে একাধিক হামলা
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী—
- একটি জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে।
- আরেকটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
- ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়।
ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

