সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে বহুল আলোচিত মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে দায়ের করা সব আপিল খারিজ করে দেন। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান পুনর্বহালের হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আপিল খারিজ
পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আপিল করা হয়েছিল। এসব আপিলের মধ্যে ছিল—
- সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চারজনের আবেদন
- নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেনের আবেদন
- জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের আবেদন
আপিল বিভাগ সবগুলো আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।
কী ছিল হাইকোর্টের রায়
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে ছিল—
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধান
- গণভোট বাতিলের বিধান
- সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ
হাইকোর্টের মতে, এসব ধারা সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
পঞ্চদশ সংশোধনী কী
২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে—
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হয়।
- সংবিধানে মোট ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়।
- জাতীয় চার মূলনীতি পুনর্বহাল করা হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে পৃথক রিট আবেদন করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি গত সপ্তাহে শেষ হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট পুনর্বহালসংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা বহাল থাকল।

