যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় ভেঙে পড়েছে দুই দেশের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবেশ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
যুদ্ধ থামানোর পথ আরও কঠিন
কয়েক সপ্তাহ আগেও দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন যে বিকল্পগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রায় সবই ঝুঁকিপূর্ণ।
একদিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যদি পিছিয়ে আসে, তাহলে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজের প্রভাব আরও বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
অর্থনীতি ও রাজনীতির চাপ
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
এদিকে নতুন সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। অর্থনৈতিক চাপ এবং ভোটারদের অসন্তোষ—দুই দিক থেকেই ট্রাম্পকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প হয়তো সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছেন। তবে ইরান বড় ধরনের ছাড় দিতে রাজি হবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। তাই এই নৌপথে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
ইরান চায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকুক।
সামনে কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা কম হলেও মাঝেমধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

