ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত দেশটির একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশেও ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারাক ও রাস্ক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের খোররামাবাদ এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে গ্রেটার টুনব দ্বীপের প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোর ওপরও ৯০ মিনিটব্যাপী অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ৭ জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসন সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর রয়েছে, তবুও চলমান হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

