বাংলাদেশের আইসক্রিম শিল্প গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাজারের আকার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম স্বাদের পণ্যের কারণে শিল্পটি এখন দেশের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ভোক্তা খাতে পরিণত হয়েছে।
বাজার–সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের আইসক্রিম বাজারের মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রতিবছর গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে এই বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক বছরেও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।
দীর্ঘ গ্রীষ্মে বেড়েছে বিক্রি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে গরমের সময়কাল আগের তুলনায় দীর্ঘ হয়েছে। মার্চ থেকে জুনের পরিবর্তে এখন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত আইসক্রিমের চাহিদা উল্লেখযোগ্য থাকে। ফলে উৎপাদন ও বিক্রির মৌসুমও দীর্ঘ হয়েছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
করপোরেট বিনিয়োগে নতুন গতি
দেশের শীর্ষ আইসক্রিম ব্র্যান্ডগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কারখানা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। সাভার, আশুলিয়া, ভালুকাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।
বদলাচ্ছে ভোক্তার রুচি
আগের তুলনায় এখন শুধু ভ্যানিলা বা চকলেট নয়, প্রিমিয়াম ও ফিউশন ফ্লেভারের আইসক্রিমের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বাদের নতুন পণ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে কোম্পানিগুলো গবেষণা ও নতুন পণ্য উদ্ভাবনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
কাঁচামাল ও কোল্ড চেইনের চ্যালেঞ্জ
শিল্পটির দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত স্কিমড মিল্ক পাউডার, বাটার ফ্যাট, কোকোয়া ও বিশেষ ফ্লেভারের মতো অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় শুল্ক বৃদ্ধি ও ডলারের দামের প্রভাব উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া কারখানা থেকে বিক্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত আইসক্রিম সংরক্ষণে নিরবচ্ছিন্ন কোল্ড চেইন বজায় রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা ও লোডশেডিংয়ের কারণে পণ্য সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় শিল্প
বিশ্লেষকদের মতে, বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা, নগরায়ণ, পরিবর্তিত জীবনধারা এবং দীর্ঘ গ্রীষ্ম—সব মিলিয়ে দেশের আইসক্রিম শিল্পের সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঁচামাল আমদানি, কর কাঠামো ও কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নত করা গেলে এ খাত আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারবে।

