দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন বার্ষিক সামরিক মহড়ার আগে জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে তাদের নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। এর আগেই উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে আসন্ন মহড়ার প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে। উৎক্ষেপণের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিউল।
জাপানের প্রতিক্রিয়া
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ইতোমধ্যে পতিত হয়েছে।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্ভাব্য ধরন বা কোথায় গিয়ে সেটি পতিত হয়েছে, সে বিষয়ে জাপানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সামরিক মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের বার্তা
কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম উল-চুলের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়ার এমন প্রতিক্রিয়া নতুন নয়।
এএফপিকে তিনি বলেন, পিয়ংইয়ং সাধারণত সিউল ও ওয়াশিংটনের যৌথ সামরিক মহড়া কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই হতে দেয় না। তাঁর মতে, এবারের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া বোঝাতে চেয়েছে যে তারা আসন্ন মহড়ার ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে।
বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, প্রয়োজন মনে করলে উত্তর কোরিয়া ভবিষ্যতে আরও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন বার্তাও এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষা
সাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

