ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথম টেস্টের জয় নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না দল। বরং সামনে থাকা ম্যাকাই টেস্টকেই দেখা হচ্ছে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও দ্বিতীয় টেস্টের আগে ক্রিকেটারদের মনোযোগ এখন পুরোপুরি নতুন ম্যাচকে ঘিরে।
বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যের মতে, ডারউইনের জয়কে অনেকটা ‘বোনাস’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ প্রথম টেস্টে যে ধরনের কন্ডিশনে খেলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশ যে প্রস্তুতি নিয়েছিল, সেটি ছিল আরও কঠিন ও গতিময় উইকেটকে মাথায় রেখে।
ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় সেই প্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ম্যাকাইয়ে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের প্রত্যাশিত মাত্রার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়নি। বিশেষ করে নতুন বলে পেস ও বাউন্সের যে পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি নিয়েছিল, সেটির পুরোটা সেখানে দেখা যায়নি।
তবে ম্যাকাইয়ের উইকেট ভিন্ন হতে পারে। সবুজ ও গতিময় উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
সফরকারীরা তাই প্রথম টেস্টের ফল নিয়ে পড়ে না থেকে দ্বিতীয় ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এখনো উইকেট দেখেনি বাংলাদেশ
ম্যাকাইয়ে পৌঁছানোর পর প্রথম দিন ক্রিকেটাররা মাঠে অনুশীলন করেননি। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর বিশ্রাম নিয়ে তাঁরা জিমে সময় কাটিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অনুশীলনে নামার কথা বাংলাদেশের। সেখানেই প্রথমবারের মতো উইকেট ও মাঠের পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা।
উইকেট না দেখে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ নিয়ে তাই এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে ডারউইনে পাওয়া বড় জয় এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় জয়ী কম্বিনেশনে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম।
দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাস, নেই বাড়তি চাপ
ম্যাকাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের পেসার শরীফুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম টেস্টে খেলতে না পারলেও দলের জয় তাঁকে আনন্দিত করেছে।
বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও তাঁর জন্য বাড়তি আনন্দের বিষয়। ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ে পেস বোলিং আক্রমণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
শরীফুলের মতে, শুধু বোলিং নয়—ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই দল একসঙ্গে ভালো করতে পারলেই বড় জয় পাওয়া সম্ভব।
দলের ভেতরের পরিবেশও যে বেশ স্বাভাবিক, সেটি বোঝা গেছে তাঁর সংবাদ সম্মেলনের সময়। সতীর্থ মুমিনুল হক মজা করে তাঁকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন। পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনও হাস্যরসের ছলে শরীফুলকে নিয়ে মন্তব্য করেন।
এসব ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ডারউইনের জয়ের পর বাংলাদেশ দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রয়েছে, কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাস নেই।
ডারউইনের জয় নিয়ে মাতামাতি নয়
প্রথম টেস্টে জয় পাওয়ার পর সাধারণত দলের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।
ক্রিকেটারদের কথাবার্তায় ডারউইনের জয় নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের চেয়ে সামনে থাকা ম্যাচের প্রস্তুতির বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
শরীফুলও বলেছেন, দলের সবাই সম্মিলিতভাবে ভালো করলে তবেই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
২২ আগস্ট শুরু দ্বিতীয় টেস্ট
দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সামনে সিরিজ বাঁচানোর চাপ রয়েছে।
আগামী ২২ আগস্ট গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্ট।
ডারউইনের তুলনায় ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন যদি সত্যিই বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে, তাহলে প্রথম টেস্টের জয় কতটা বড় আত্মবিশ্বাসের জোগান দিয়েছে, তার আসল পরীক্ষা হবে এই ম্যাচেই।
বাংলাদেশ অবশ্য আপাতত অতীতের জয় কিংবা ভবিষ্যতের চাপ—কোনোটাকেই সামনে রাখছে না। দলের লক্ষ্য একটাই, নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে মাঠে নামা।
ডারউইনে পাওয়া জয় হয়তো ছিল বোনাস; ম্যাকাইয়ে অপেক্ষা করছে আসল পরীক্ষা।

