ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগের কয়েক দিন যেন পুরো দেশজুড়েই ছিল নেইমার–উত্তেজনা। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে সাবেক ফুটবলার, সমর্থক—সবাই অপেক্ষায় ছিলেন একটাই প্রশ্নের উত্তরের জন্য, বিশ্বকাপ দলে থাকবেন তো Neymar?
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। কোচ Carlo Ancelotti বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে।
তিন বছরের শিশুর প্রার্থনা ভাইরাল
ব্রাজিলের ছোট্ট শিশু বের্নার্দোর বয়স মাত্র তিন বছর। কিন্তু এই বয়সেই নেইমারের প্রতি তার ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ফোর্তালেজার একটি গির্জায় গিয়ে সে প্রার্থনা করেছিল, যেন বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পান নেইমার। সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
দল ঘোষণার পর পরিবারের সঙ্গে টিভির সামনে বসে নেইমারের নাম শুনে আনন্দে ভেসেছে ছোট্ট এই ভক্ত।
🇧🇷 ব্রাজিলজুড়ে নেইমার উন্মাদনা
নেইমারকে ঘিরে উত্তেজনা শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্রাজিলজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে ছিল দারুণ আগ্রহ।
দেশটির এক পানশালা আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, বিশ্বকাপ দলে নেইমার থাকলে সবার জন্য বিনামূল্যে বিয়ার বিতরণ করা হবে। দল ঘোষণার পর সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
কঠিন সময় পেরিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা
২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন নেইমার।
একের পর এক চোট, সমালোচনা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গেছেন নিরবে।
নেইমারের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, এই মুহূর্তের জন্য তাঁর ছেলে কতটা কষ্ট আর পরিশ্রম করেছে, সেটা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা।
স্পষ্টবাদী আনচেলত্তি
বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে নেওয়ার ব্যাখ্যায় আনচেলত্তি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, নেইমারকে শুধু নামের কারণে নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন,
“নেইমার যদি খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে খেলবে। অনুশীলনে তার অবস্থা কেমন, সেটাই সিদ্ধান্ত ঠিক করবে।”
আনচেলত্তির মতে, দলের পুরো চাপ একজন খেলোয়াড়ের ওপর দেওয়া ঠিক হবে না।
নেইমারের সামনে ইতিহাস
এটি হতে যাচ্ছে নেইমারের চতুর্থ বিশ্বকাপ।
ব্রাজিলের ইতিহাসে মাত্র কয়েকজন ফুটবলার চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। এবার সেই বিশেষ তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন নেইমারও।
বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। যৌথভাবে আসরটি আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।
শেষ সুযোগ?
৩৪ বছর বয়সী নেইমারের জন্য এটিই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ।
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের বিশ্বাস, বড় মঞ্চে শেষবারের মতো জ্বলে উঠতে পারবেন তাঁদের প্রিয় তারকা। এখন দেখার বিষয়, নেইমার সেই আস্থার প্রতিদান কতটা দিতে পারেন।


