বিদ্যুৎ সংকটের ইতি? এক সপ্তাহ লোডশেডিং ছাড়াই বাংলাদেশ

0
65
৭ দিন লোডশেডিং নেই

দেশে টানা এক সপ্তাহ ধরে কোনো লোডশেডিং হয়নি, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় এই সময়ে কোথাও লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষি খাতে সেচের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়, যা সামগ্রিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আগের তুলনায় এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি অনেক উন্নত। তিনি বলেন, ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে আগে উৎপাদনে ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তেল ও গ্যাস সীমিত হওয়ায় সেগুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হয়েছে এবং আরেকটি ইউনিট শিগগিরই চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদার সমপরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে কোথাও লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হয়নি।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির পেছনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সাশ্রয়ী উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এয়ার কন্ডিশনার ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় ব্যবহারের নির্দেশনা এর মধ্যে অন্যতম।

পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) ও কয়লা আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যুক্ত হওয়াও পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে কোথাও উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়নি। আগে যেখানে দিনে একাধিকবার লোডশেডিং হতো, এখন তা প্রায় নেই বললেই চলে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয়ভাবে কারিগরি বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে লোডশেডিং হিসেবে গণ্য করা হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here