বরগুনা আদালতে আসামির সাজা
বরগুনা আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর বিচারককে অশালীন মন্তব্য এবং দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে বশির নামে এক আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার দুপুরে বরগুনা সদর আমলি আদালতে একটি সিআর মামলার শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান এ সাজা দেন।
জামিন নামঞ্জুরের পর উত্তেজিত আচরণের অভিযোগ
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম ফরাজি জানান, একটি মামলায় অস্থায়ী জামিনে থাকা বশিরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বশির এজলাসে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং বিচারককে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উপস্থিত আইনজীবীরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান এপিপি।
পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ
পরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা বশিরকে হ্যান্ডকাফ পরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি কনস্টেবল সিদ্দিকের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন এপিপি।
বিচারকের উপস্থিতিতেই ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ড
ঘটনার পর আদালত দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ৩২৩ ধারায় মামলা আমলে নেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বশিরকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে অতিরিক্ত ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পরে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের প্রতি সম্মানের আহ্বান
বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের প্রতি সবার আস্থা ও সম্মান থাকা উচিত। আদালতে বশিরের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

