পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে ভয়াবহ তুষারধসে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায় উদ্ধারকারী দল তাঁর মরদেহ খুঁজে পেয়েছে। একই এলাকায় আরও তিনটি মরদেহ দেখা গেলেও তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে শনিবার নির্মল পুরজার প্রতিষ্ঠান এলিট এক্সপেডিশনস নিশ্চিত করেছিল যে, ব্রড পিকে তুষারধসে নিহত ১০ জনের মধ্যে তিনিও ছিলেন। ৪৩ বছর বয়সী এই নেপালি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্বতারোহীর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিন্স উইলিয়ামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
গত বুধবার নির্মল পুরজার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দল ব্রড পিকের চূড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার ভয়াবহ তুষারধসের পর দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই পাকিস্তানের উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো কঠিন আবহাওয়ার মধ্যেও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে আসছিল।
আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহগুলো জাপানি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে। এর আগেই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যালরি গেইস, ওমানের নাধিরা আহমেদ আবদুল্লাহ আল হারথি এবং নেপালের পুর বাহাদুর গুরুংয়ের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নির্মল পুরজাসহ ছয় নেপালি ও চার বিদেশি পর্বতারোহীর মৃত্যুকে গভীর শোকের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের সাহস, নিষ্ঠা ও অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
নির্মল পুরজার বড় ভাই কামাল পুরজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় লেখেন, ছোট ভাইকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে তাঁর কীর্তি ও অবদান চিরকাল মানুষের মনে বেঁচে থাকবে।
বিশ্বপর্বতারোহণে নির্মল পুরজা এক অনন্য নাম। ২০১৯ সালে মাত্র ১৮৯ দিনে বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতশৃঙ্গ জয় করে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েন। পরে এই অসাধারণ অভিযানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র ‘14 Peaks: Nothing Is Impossible’ তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করা নির্মল পুরজা বিশেষ বাহিনীর সদস্য হিসেবেও সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। উচ্চতর পর্বতারোহণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ব্রিটিশ সম্মাননা এমবিই লাভ করেন।
পাকিস্তানে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিজের শেষ পোস্টে নির্মল পুরজা জানিয়েছিলেন, তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল গাশারব্রুম-২ শৃঙ্গে আরোহণ। পরে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রড পিক জয় করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল অক্সিজেন ছাড়া বিশ্বের ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গ দ্বিতীয়বারের মতো জয় করে ইতিহাস গড়া। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই কারাকোরামের ভয়াবহ তুষারধস তাঁর জীবন কেড়ে নেয়।

