বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি আদায়ে একক গেটওয়ে নয়, সব ব্যাংক ব্যবহারের সুপারিশ

0
36

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে নতুন সুপারিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি, বেতন, অনুদান ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেন শুধু একটি নির্দিষ্ট পেমেন্ট গেটওয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত।

বর্তমানে প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন সোনালী ব্যাংকের সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (এসপিজি) অথবা সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেনদেন একক কোনো গেটওয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, কোনো কারণে একটি গেটওয়েতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে পুরো ফি সংগ্রহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি একক আধিপত্যের কারণে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে, যা সেবার মানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী, দেশের সব অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ে, ব্যাংক এবং এমএফএস সেবাদাতাদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফি ও অন্যান্য অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পেলে সেবার মান বাড়বে এবং গ্রাহকরা নিজেদের সুবিধামতো মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন।

বর্তমানে দেশে ১০টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর এবং একাধিক বেসরকারি ব্যাংক আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম (Education Management System) ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে, সেবার মান উন্নত হবে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আরও সহজে ও কম খরচে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন। একই সঙ্গে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here