ইউরোপীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক হত্যাকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার আশঙ্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পুতিনের আশেপাশে থাকা কর্মীদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। এমনকি তাদের বাসায়ও নতুন করে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বসানো হয়েছে।
বাড়ানো হয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
পুতিনের সঙ্গে কাজ করা রাঁধুনি, নিরাপত্তাকর্মী ও ফটোগ্রাফারদের জন্যও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাদের সাধারণ পরিবহন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটবিহীন ফোন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে গেলে দ্বিগুণ নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
সফর সীমিত, বাঙ্কারে অবস্থান
প্রতিবেদন বলছে, পুতিন এখন আগের মতো বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করছেন না। বরং তার চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এমনকি তিনি নিয়মিত যে বাসভবনগুলোতে যেতেন, সেগুলোতেও যাওয়া বন্ধ করেছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি অনেক সময় নিরাপদ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
অভ্যন্তরীণ সংকট ও যুদ্ধের চাপ
রাশিয়া বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে চাপের মুখে রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও বাড়ছে।
অভ্যুত্থানের আশঙ্কা?
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের ভেতরে গোপন তথ্য ফাঁস ও সম্ভাব্য অভ্যুত্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ড্রোন হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
এছাড়া, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী Sergei Shoigu-কে নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যিনি এখনও সামরিক মহলে প্রভাবশালী।
নিরাপত্তা জোরদারের পেছনের কারণ
একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের পর রাশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই ঘটনার পর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্যও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।


