রানা প্লাজা দুর্নীতি মামলা: রায় স্থগিত, আবার হবে যুক্তিতর্ক
সাভারের রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হয়নি। আদালত মামলাটি আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পাঠিয়েছেন।
ঢাকা: সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় নতুন মোড় এসেছে। রায়ের পর্যায়ে থাকা মামলাটি আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে আজ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল।
আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
মামলায় আসামি সোহেল রানাসহ ৮ জন
রানা প্লাজা নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির এ মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আটজন আসামি রয়েছেন।
অন্য আসামিরা হলেন—
- সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ
- সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়
- নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম
- সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান
- সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল
- সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম
- লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব
সোহেল রানা বর্তমানে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। তবে এই দুর্নীতির মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।
রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহ ঘটনা
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত রানা প্লাজা ধসে পড়ে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু শ্রমিক।
ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
নকশা পরিবর্তন ও নির্মাণ অনিয়মের অভিযোগ
দুদকের তদন্তে ভবন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তাঁর মা-বাবাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সোহেল রানার মা ও বাবার মৃত্যু হলে তাঁদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিচার কার্যক্রম
২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে রায় ঘোষণার আগে আবার যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে ফিরেছে মামলাটি।

