রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, রোববার রাতের এই অভিযানে মোট ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যা চলতি বছরে দেশটির ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রোস্তভ অঞ্চলে পাঁচজন, বেলগোরোদে একজন নারী এবং মস্কো অঞ্চলে একজন বৃদ্ধ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলোর মধ্যে প্রায় ৬০০টির লক্ষ্য ছিল রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকা। মস্কোর নিকটবর্তী কোলেদিনো এলাকায় অবস্থিত অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বড় গুদামও হামলার শিকার হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং স্থাপনাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার পর গুদাম এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতেও আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস ও পরিবহন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক সরবরাহকেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার পাল্টা হামলার মুখে পড়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়া, ক্রিভি রিহ, সুমি, দোনেৎস্ক ও খেরসন অঞ্চলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী কিয়েভেও একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। শহরটিতে হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

