যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা টানা ১১তম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে চালানো বিমান হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে চালানো হামলার বিষয়ে সেন্টকম জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক এবং বুশেহর এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে। বুশেহরে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত।
পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত “পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন” নামে পরিচিত একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ওই এলাকায় বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে এবং ইরান তা ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র ও সহযোগীদের স্বার্থ লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সেন্টকমের দাবি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, বিমানঘাঁটি, সামুদ্রিক সক্ষমতা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালিতে ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের অভিযোগ, এসব হামলার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।
কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে সতর্কতা
হামলার পর কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। একই ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর দাবি করেছে বাহরাইন ও জর্ডানও।
হুতিদের নতুন হুমকি
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়েছে।
এই ঘোষণার পর সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া দুটি তেলবাহী ট্যাংকার রুট পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড।
বাড়ছে উত্তেজনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস আগে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতা হলেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ফলে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

