Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের দাবি, আজই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি; খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি

ট্রাম্পের দাবি, আজই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি; খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচিত শান্তিচুক্তি আজই সই হতে পারে। তাঁর মতে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তি সইয়ের বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, আলোচনা ইতিবাচক হলেও সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পারমাণবিক উপাদানগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই জলপথে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত কাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি আলোচিত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ