জার্মানির নিডারজ্যাক্সেন অঙ্গরাজ্যের স্টাডে শহরে সংঘটিত ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় ছয়জন নিহত হওয়ার পেছনে সন্তানের হেফাজত (অভিভাবকত্ব) নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে জানিয়েছে দেশটির তদন্তকারী সংস্থা।
সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই দিন তাঁর তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত একটি শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকের সময়ই সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রে তিনি হামলা চালান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুরের কিছু পর স্টাডে শহরের ডাঙ্কারস্ট্রাসে এলাকায় অবস্থিত একটি সামাজিক সহায়তা কেন্দ্রে প্রথম গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলায় নিহত ছয়জনই ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তাঁদের মধ্যে চারজন নারী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলে। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে তাঁর ব্যবহৃত গাড়ির টায়ার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাঁকে আটক করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি জার্মানিতেই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে কিছু পুলিশি রেকর্ড থাকলেও তাঁকে কখনো উচ্চ ঝুঁকির সহিংস ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র কীভাবে তাঁর হাতে এসেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অস্ত্র বহনের বৈধ অনুমতি তাঁর ছিল না।
যে প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে, সেটি মূলত সংকটাপন্ন সামাজিক পরিস্থিতিতে থাকা মা ও শিশুদের জন্য আবাসিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তের সন্তানের মা ও শিশুটি সেখানে অবস্থান করলেও তাঁরা দুজনই অক্ষত রয়েছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি গাড়ি থেকে এক নারীর সঙ্গে আটক করা হয়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার সন্দেহে ওই নারীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিডারজ্যাক্সেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ ও প্রসিকিউশন বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হামলার পেছনের সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

