ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান ৫৯ ধাপ। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই পার্থক্যের কোনো ছাপই দেখা গেল না। বরং বিশ্বকাপের ম্যাচে শক্তিশালী ইরানকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। দুইবার এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি ওশেনিয়ার দলটি। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় নিউজিল্যান্ড। খেলার সপ্তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন এলিজা জাস্ট। অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের শুরুতে কিছুটা অগোছালো ফুটবল খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরে আসে ইরান। ৩২ মিনিটে রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতায় ফেরে এশিয়ার দলটি। এর আগে মেহদি তারেমির একটি শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পর আবারও চমক দেখায় নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইরানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এলিজা জাস্ট। ক্রিস উডের সহায়তায় গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দলকে আবারও এগিয়ে দেন তিনি।
তবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ইরান। ৫৪ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার ১০ মিনিট পর আবারও সমতায় ফেরে দলটি। রেজাইয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করেন মোহাম্মদ মোহেবি।
শেষ সময়ে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। একের পর এক আক্রমণে নিউজিল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডও নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। ফলে ২-২ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের এটি আরেকটি লড়াকু পারফরম্যান্স। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে দলটি তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল। এবারও প্রথম জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে তারা।
অন্যদিকে, মাঠের বাইরের নানা বিতর্কের মধ্যেও মাঠে নেমেছিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, দলের সফর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং গ্যালারিতে বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে চাপে ছিল দলটি। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অন্তত একটি পয়েন্ট তুলে নিতে পেরেছে তারা।
গ্রুপ পর্বে ইরানের পরবর্তী ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে। আর নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে মিসরের।

