ঢাকার পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে দেশের সর্ববৃহৎ নগর বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ির ৪ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন ১১ নম্বর লেকপাড় এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সোমবার বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নগর জীবনে গাছের প্রকৃত উপকারিতা অনুভব করার মতো উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। এই বনায়ন প্রকল্প রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রকল্পে আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমান ফেইজ-২ ও ফেইজ-৩-এ প্রায় ২ দশমিক ৬০ একর এলাকাজুড়ে ৩৯ হাজার ৪০০টি গাছ লাগানো হবে। এর আগে ফেইজ-১-এ ১৪ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল।
এই বনায়ন কার্যক্রমে দেশীয় ফলজ, ফুল, ঔষধি, কাঠজাত, শোভাবর্ধনকারী, কনিফার, গুল্ম ও ঝোপালোসহ প্রায় ২৫০ প্রজাতির গাছ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মিয়াওয়াকি পদ্ধতির বনায়নে বায়োফিলিক ডিজাইন ও বায়োমিমিক্রি নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পথ এবং লেকপাড় ঘেঁষে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে নগরবাসী প্রাকৃতিক পরিবেশের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
এছাড়া বনভূমির উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা দো-আঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক, বোনমিল ও জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে। ডিএনসিসি জানায়, জাপানি ধারণা ‘শিনরিন ইয়োকু’ বা ‘বন স্নান’-এর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই নগর বনায়ন কার্যক্রমে বন অধিদপ্তর, শক্তি ফাউন্ডেশন, গ্রিন সেভার্স, গ্রীন ভয়েস, ব্রাইটার্স, ইউথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ও অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠন সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি বায়ুমান বিশ্লেষণ ও প্রকল্পের কারিগরি সহায়তায় যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরাও।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


