১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় আসরগুলোর একটি। আর এই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেই দল পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ম্যারাডোনা এবং বাকি ১০ জন’ নামে।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ম্যারাডোনা ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। গোল করা, আক্রমণ গড়া কিংবা ম্যাচের গতি বদলে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর একক আধিপত্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি করেন ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুটি গোল—একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে বিখ্যাত।
সেই বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ছিল নানা নাটকীয়তা। মূল আয়োজক হওয়ার কথা ছিল কলম্বিয়ার, কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তারা সরে দাঁড়ালে মেক্সিকো দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায়। টুর্নামেন্ট শুরুর কিছুদিন আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পেও কেঁপে ওঠে দেশটি, তবে বিশ্বকাপ আয়োজন থেমে থাকেনি।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে নতুন নিয়মে ২৪ দল অংশ নেয়। গ্রুপ পর্ব থেকে তৃতীয় হওয়া কিছু দলও সুযোগ পায় নকআউট পর্বে ওঠার। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ফুটবল বিশ্ব দেখেছিল ফ্রান্স-ব্রাজিলের ক্লাসিক লড়াই, বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য জয় এবং ম্যারাডোনার জাদুকরী পারফরম্যান্স।
ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ট্রফি হাতে ম্যারাডোনার সেই মুহূর্ত আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক ছবি হয়ে আছে।


