Homeসারাদেশবাঁশখালী ইকোপার্কে মিলল ১৭৩ প্রজাতির বন্য প্রাণী, এখনও বিচরণ করছে বুনো হাতি

বাঁশখালী ইকোপার্কে মিলল ১৭৩ প্রজাতির বন্য প্রাণী, এখনও বিচরণ করছে বুনো হাতি

চট্টগ্রামের বাঁশখালী ইকোপার্কে এখনও অবাধে বিচরণ করছে বুনো হাতি। রাত নামলেই ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়ে মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, গোরখোদক ও শজারুর মতো বিরল প্রাণী। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে এই বনাঞ্চল।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাম্প্রতিক এক জরিপে বাঁশখালী ইকোপার্কে ১৭৩ প্রজাতির বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১২৬ প্রজাতির পাখি, ১৬ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী।

২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫ মেয়াদে পরিচালিত জরিপে দিনের বেলায় সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং রাতের বেলায় ক্যামেরা ট্র্যাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাঁশখালী ইকোপার্ক চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত। প্রায় এক হাজার হেক্টর বনভূমি নিয়ে গড়ে ওঠা এই ইকোপার্ক জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী হিসেবে উঠে এসেছে মহাবিপন্ন এশীয় হাতি। বন গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সারা বছর ২০ থেকে ২৫টি হাতি ইকোপার্ক ও আশপাশের বনাঞ্চলে বিচরণ করে।

এছাড়া বানর, বুনো শূকর, বাদামি কাঠবিড়ালি, চিতা বিড়াল, মেছো বিড়াল ও গোরখোদকের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে, যা বনটির খাদ্যশৃঙ্খল এখনও সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়।

পাখির বৈচিত্র্যও উল্লেখযোগ্য। জরিপে শামুকখোল, বড় পানকৌড়ি, বনমুরগি, বউকথা কও, বড়টিয়া ও ছোট সরালিসহ ১২৬ প্রজাতির পাখি শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বনাঞ্চল, জলাধার ও জলাভূমির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পরিবেশ পাখিদের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল হিসেবে কাজ করছে।

সরীসৃপের মধ্যে রামগাদি গুইসাপ, তক্ষক, অঞ্জনী ও রক্তচোষা এবং উভচরের মধ্যে কুনোব্যাঙ, গেছো ব্যাঙ ও সোনাব্যাঙের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ফলদ বৃক্ষের স্বল্পতা, মানুষ-বন্য প্রাণী সংঘাত, বনভূমিতে সবজি চাষ, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ বন্য প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

তাঁর মতে, বিশেষ করে এশীয় হাতির খাদ্যগাছ ও চারণভূমির ঘাটতি দূর না করা গেলে ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবুও দ্রুত নগরায়ণ ও বনভূমি সংকুচিত হওয়ার মধ্যেও বাঁশখালী ইকোপার্ক এখনও হাতি, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, শামুকখোলসহ অসংখ্য বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে টিকে আছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ