বাংলাদেশের বেসরকারি চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কম বেতন, সীমাহীন কর্মঘণ্টা এবং অনিশ্চিত চাকরির বাস্তবতায় দিন কাটাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর বেতন ও পদোন্নতিতে তেমন পরিবর্তন আসছে না। ফলে কর্মজীবীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অধিকাংশ বেসরকারি কর্মীকে প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়েই অফিসে যেতে হয়েছে। অনেক কর্মীর অভিযোগ, দেরি করে অফিসে পৌঁছালে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না, যদিও পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, নেই অতিরিক্ত সুবিধা
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অভিযোগ, শ্রম আইনে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় কাজ করতে হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ওভারটাইম বা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয় না। একই সঙ্গে দায়িত্ব ও কাজের চাপ বাড়লেও বেতন বৃদ্ধি হয় খুবই সীমিত।
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ
অনেক কর্মী মনে করেন, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অফিস রাজনীতি অনেক সময় পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব ফেলে। এতে যোগ্য কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন এবং কর্মপরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
বেসরকারি খাতের অনেক কর্মী অভিযোগ করেন, সামান্য কারণে বা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তে হঠাৎ চাকরি হারানোর ঝুঁকি সব সময় থাকে। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি ছাড়ার পর পাওনা অর্থ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়।
সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ চললেও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য একই ধরনের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। শ্রম আইনে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সুবিধার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এসব সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে না।
দ্রুত নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি কর্মীদের জন্য কার্যকর সার্ভিস রুলস, শ্রম আইন বাস্তবায়ন, ন্যায্য বেতন, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নগরীর যানজট ও জলাবদ্ধতা কমিয়ে কর্মঘণ্টার অপচয় রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তাদের মতে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে দেশের বেসরকারি খাতের কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

