রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের স্থান, সময় ও কারণ নিয়ে আগের বক্তব্যের কিছু অংশে পরিবর্তন এসেছে, যা তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসার ফল বলে জানিয়েছেন তিনি।
কীভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্যমতে, রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বাসার তৃতীয় তলার খোলা ছাদে হত্যা করা হয়। পরে মা ও মেয়ের মরদেহ ছাদের গেটের ভেতরে সিঁড়িতে সরিয়ে রাখা হয়, যাতে পার্শ্ববর্তী বাড়ির ছাদ থেকে তা দেখা না যায়। ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী ঘুম থেকে উঠে অভিযুক্তদের একজনকে দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানান কমিশনার।
তিনি জানান, ঘটনার রাতে গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে ওই বাসার ছাদে গিয়েছিলেন। দিনের আলো ফোটার পর গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাঁদের দেখে ফেলায় ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
আগের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা
গত রোববারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, শিশুটি ঘুম থেকে জেগে উঠেই অভিযুক্তদের একজনকে দেখে ফেলেছিল।
হত্যার কারণ নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন কমিশনার। আগে শুধু মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও, এবার তিনি জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে অভিযুক্তদের একজনের পারিবারিক অসন্তোষও এই ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক প্রেক্ষাপটও তদন্তের আওতায়
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, এলাকার সামাজিক কাঠামো ও দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্বও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে সীমিত সামাজিক যোগাযোগের বিষয়টি ঘটনার নেপথ্যে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অসন্তোষ
লিখিত বক্তব্য পাঠের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন পুলিশ কমিশনার। এতে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পায়, কারণ হত্যাকাণ্ডের বিবরণে পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাননি তাঁরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

