প্রতিটি ফরজ নামাজের পর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও জিকির পাঠ করতেন। এসব আমল একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। ইসলামী শরিয়তে ফরজ সালাতের পর দোয়া ও জিকিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাম ফেরানোর পর তিনবার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করতেন। এরপর তিনি “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম” দোয়াটি পড়তেন।
এছাড়াও তিনি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু…” সহ বিভিন্ন দোয়া, তাসবিহ ও তাহলিল পাঠ করতেন। ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার “সুবহানাল্লাহ”, ৩৩ বার “আলহামদুলিল্লাহ” এবং ৩৩ বার “আল্লাহু আকবার” পাঠ করার ব্যাপারেও বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আয়াতুল কুরসি পাঠের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।
একই সঙ্গে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করার আমলও রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত করতেন। এসব আমল মানুষের গুনাহ মাফ, শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা এবং আল্লাহর রহমত লাভের কারণ হয়।
ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর কিছু নির্দিষ্ট দোয়ার কথাও হাদিসে এসেছে, যেগুলো নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং নানা বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ফরজ নামাজের পর কয়েক মিনিট সময় বের করে এসব দোয়া ও জিকির করার অভ্যাস গড়ে তোলা। কারণ এগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত এবং একজন মুমিনের আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।


