স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সময় শুধুই ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে না। গবেষণা বলছে, আমরা কী খাব, কতটুকু খাব কিংবা কোনো খাবার কতটা উপভোগ করব—এসব বিষয়ে আমাদের চোখ, কান, নাক এবং স্পর্শের অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আমরা বুঝতেও পারি না যে চারপাশের পরিবেশ আমাদের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে সেগুলোকে নিজের পক্ষেও কাজে লাগানো সম্ভব। এখানে তুলে ধরা হলো এমন সাতটি কৌশল, যা আপনাকে তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সহায়তা করতে পারে।
১. রঙিন প্যাকেটের খাবার থেকে দূরে থাকুন
উজ্জ্বল রঙের প্যাকেজিং সহজেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে চিপস, বিস্কুট বা অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার কেনার প্রবণতা বাড়ে। তাই এ ধরনের খাবার বাড়িতে থাকলে সেগুলো অস্বচ্ছ পাত্রে সংরক্ষণ করুন, যাতে বারবার চোখে না পড়ে।
২. সুপারমার্কেটের চোখের সমতলের তাকের বাইরে তাকান
দোকানে সাধারণত বেশি বিক্রি করতে চাওয়া পণ্যগুলো এমন জায়গায় রাখা হয়, যা ক্রেতাদের সহজে চোখে পড়ে। তাই কেনাকাটার সময় শুধু সামনের তাক নয়, নিচের বা উপরের তাকগুলোও দেখুন। অনেক সময় তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প সেখানেই পাওয়া যায়।
৩. ভারী প্লেট বা বাটি ব্যবহার করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারী বাটি বা প্লেটে পরিবেশিত খাবার মানুষকে তুলনামূলকভাবে বেশি তৃপ্তির অনুভূতি দিতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
৪. খাবারকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজান
রঙিন শাকসবজি, ফলমূল কিংবা স্বাস্থ্যকর উপাদান দিয়ে খাবার সুন্দরভাবে সাজিয়ে পরিবেশন করলে তা খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। এমনকি একই খাবারও দৃষ্টিনন্দনভাবে পরিবেশন করা হলে মানুষ সেটিকে বেশি সুস্বাদু মনে করতে পারে।
৫. ধীরগতির সংগীত শুনে খাবার খান
খাবারের সময় শান্ত ও ধীরগতির সংগীত মানুষকে ধীরে ধীরে খেতে উৎসাহিত করতে পারে। আর ধীরে খেলে তুলনামূলক কম ক্যালোরি গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি টিভি বা মোবাইল ফোনের মতো বিভ্রান্তিকর উপকরণ এড়িয়ে চলাও উপকারী।
৬. খাবারে স্বাস্থ্যকর উপাদানের পরিমাণ বাড়ান
খাবারের পরিমাণ কমানোর পরিবর্তে তার ক্যালোরির ঘনত্ব কমানো যেতে পারে। যেমন—সুপ, পাস্তা বা অন্যান্য রান্নায় বেশি পরিমাণে শাকসবজি যোগ করা। এতে খাবারের পরিমাণ একই থাকলেও মোট ক্যালোরি কমে আসে।
৭. পেট ভরা থাকলেও প্রলোভন থেকে সাবধান থাকুন
গবেষকরা বলছেন, মিষ্টিজাতীয় খাবার চোখের সামনে দেখলেই তা খাওয়ার ইচ্ছা জাগতে পারে, এমনকি পেট ভরা থাকলেও। তাই অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বা ডেজার্ট সব সময় হাতের নাগালে না রাখাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ সব সময় যুক্তি দিয়ে খাবার নির্বাচন করে না। বরং পরিবেশ, উপস্থাপন এবং সংবেদনশীল বিভিন্ন উপাদান আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসকে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলা সম্ভব।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু হতে পারে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত থেকেই—হোক তা একটি সুন্দরভাবে সাজানো সালাদ, কিংবা ধীরে সুস্থে উপভোগ করা রাতের খাবার।

