আমিরাতে দ্বিতীয় দিনের হামলার দাবি, ইরানের অস্বীকারে বাড়ছে উত্তেজনা

0
44

সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমিরাতের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন অভিযান চালানো হয়নি। তারা দাবি করেছে, এ ধরনের অভিযোগ “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন”।

ফুজাইরাহতে আগুন, বাড়ছে উত্তেজনা

আমিরাতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবারের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হন এবং পূর্বাঞ্চলীয় ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় আগুন লাগে।

ফুজাইরাহর এই তেল টার্মিনাল দেশটির জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে ওমান উপসাগরের মাধ্যমে তেল পরিবহনের সুযোগ দেয়।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সংকট

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামুদ্রিক উদ্যোগ “প্রজেক্ট ফ্রিডম”। এই অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

ইরানের কড়া অবস্থান

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। বিভিন্ন জাহাজে হামলা কিংবা হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।

পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনা

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি নৌযান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এখনো যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভাঙেনি।

বিশ্ববাজারে প্রভাব

হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আবারও বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here